ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪০ হাজার টাকার স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই চলে গেলেন পাবিপ্রবি শিক্ষার্থী রাজমনি


পাবনা শহরের একটি ছাত্রী মেস থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী রাজমনি ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পাবনা শহরের ডিগ্রি বটতলা এলাকার বাদশা ছাত্রী নিবাস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত রাজমনি ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের মো. আকালু ইসলামের মেয়ে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে চেয়েছিলেন।
পরিবার ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইইএলটিএস কোর্সে ভর্তি হতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সেই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন বলে জানান স্বজনরা।
জানা গেছে, রাজমনির বাবা তার জন্মের পর থেকেই একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে রাজমনি ছিলেন সবার ছোট। বড় বোন গার্মেন্টসকর্মী এবং ভাই গাড়িচালক। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি পাবিপ্রবিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।
রাজমনির চাচা জানান, মৃত্যুর দিন দুপুরেও পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। পরে ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে বন্ধু প্রান্ত দেবনাথ বিষয়টি রুমমেটকে জানান। রুমমেট অর্পিতা রশিদ মেসে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় রাজমনিকে ঝুলতে দেখেন।
পাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. রাশেদুল হক বলেন, এভাবে একজন শিক্ষার্থীকে হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হয়েছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি।

ট্যাগঃ

৪০ হাজার টাকার স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই চলে গেলেন পাবিপ্রবি শিক্ষার্থী রাজমনি

৪০ হাজার টাকার স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই চলে গেলেন পাবিপ্রবি শিক্ষার্থী রাজমনি

সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬


পাবনা শহরের একটি ছাত্রী মেস থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী রাজমনি ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পাবনা শহরের ডিগ্রি বটতলা এলাকার বাদশা ছাত্রী নিবাস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত রাজমনি ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের মো. আকালু ইসলামের মেয়ে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে চেয়েছিলেন।
পরিবার ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইইএলটিএস কোর্সে ভর্তি হতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সেই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন বলে জানান স্বজনরা।
জানা গেছে, রাজমনির বাবা তার জন্মের পর থেকেই একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে রাজমনি ছিলেন সবার ছোট। বড় বোন গার্মেন্টসকর্মী এবং ভাই গাড়িচালক। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি পাবিপ্রবিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।
রাজমনির চাচা জানান, মৃত্যুর দিন দুপুরেও পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। পরে ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে বন্ধু প্রান্ত দেবনাথ বিষয়টি রুমমেটকে জানান। রুমমেট অর্পিতা রশিদ মেসে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় রাজমনিকে ঝুলতে দেখেন।
পাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. রাশেদুল হক বলেন, এভাবে একজন শিক্ষার্থীকে হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হয়েছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি।