ঢাকা ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নদী রক্ষার প্রকল্পে বালু বাণিজ্যের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় যুবককে হয়রানির অভিযোগ


পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের আড়িয়াগোয়ালবাড়ি এলাকায় পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আড়ালে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন ও তা বাইরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এ অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এক স্থানীয় যুবককে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীশাসন প্রকল্পের আওতায় জিওব্যাগ (জিও পাইপ) স্থাপনের কাজ চলছে। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি থাকলেও সেই সুযোগে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর দাবি, অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে আশপাশের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ঝুঁকির মুখে পড়ার পাশাপাশি নদীশাসন প্রকল্পের কার্যকারিতাও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
এ বিষয়ে টাটিপাড়া-গোয়ালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা অপু বিশ্বাস প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পাবনা সদর থানার নির্দেশনায় গত ৩০ জুন রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বালুভর্তি দুটি হ্যারো ট্রাক, বালু উত্তোলনের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার টিপু সুলতান এবং তাঁর দুই সহযোগীকে আটক করে পুলিশ।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আটকের পর রহস্যজনকভাবে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, দুবলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির কিছু সদস্যের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে অপু বিশ্বাসের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় টিপু সুলতান তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানির উদ্দেশ্যে পাবনা সদর থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অপু বিশ্বাস বলেন, “আমি শুধু পরিবেশ ও নদী রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। এখন আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে। আমি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, টিপু সুলতান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও সেগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সচেতন নাগরিকদের মতে, নদী রক্ষা প্রকল্পের আড়ালে যদি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বাণিজ্য পরিচালিত হয়, তবে তা সরকারি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নদীভাঙন ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পুরো ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয়

নদী রক্ষার প্রকল্পে বালু বাণিজ্যের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় যুবককে হয়রানির অভিযোগ

নদী রক্ষার প্রকল্পে বালু বাণিজ্যের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় যুবককে হয়রানির অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের আড়িয়াগোয়ালবাড়ি এলাকায় পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আড়ালে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন ও তা বাইরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এ অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এক স্থানীয় যুবককে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীশাসন প্রকল্পের আওতায় জিওব্যাগ (জিও পাইপ) স্থাপনের কাজ চলছে। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি থাকলেও সেই সুযোগে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর দাবি, অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে আশপাশের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ঝুঁকির মুখে পড়ার পাশাপাশি নদীশাসন প্রকল্পের কার্যকারিতাও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
এ বিষয়ে টাটিপাড়া-গোয়ালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা অপু বিশ্বাস প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পাবনা সদর থানার নির্দেশনায় গত ৩০ জুন রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বালুভর্তি দুটি হ্যারো ট্রাক, বালু উত্তোলনের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার টিপু সুলতান এবং তাঁর দুই সহযোগীকে আটক করে পুলিশ।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আটকের পর রহস্যজনকভাবে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, দুবলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির কিছু সদস্যের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে অপু বিশ্বাসের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় টিপু সুলতান তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানির উদ্দেশ্যে পাবনা সদর থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অপু বিশ্বাস বলেন, “আমি শুধু পরিবেশ ও নদী রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। এখন আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে। আমি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, টিপু সুলতান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও সেগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সচেতন নাগরিকদের মতে, নদী রক্ষা প্রকল্পের আড়ালে যদি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বাণিজ্য পরিচালিত হয়, তবে তা সরকারি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নদীভাঙন ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পুরো ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।