ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আতাইকুলায় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও পুলিশি প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানা এলাকায় যুবলীগ নেতা মো. শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ-সমর্থক বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে পুলিশ কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কথিত পুলিশি প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নিয়মিত টাকা দেন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা হলেও যারা মাসিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের ধরপাকড়, মামলা ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ভয় দেখানো হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বকুল মেম্বর (গনেশপুর), আনোয়ার (আতাইকুলা, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি), সাইদুল ইসলাম (আতাইকুলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি), রানা মৃধা (ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা), হাসনাত (আতাইকুলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক), রায়হান (আতাইকুলা সদর) এবং নুর নবীসহ কয়েকজনের সঙ্গে এ ধরনের লেনদেন ও যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, শিমুল বিশ্বাস বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে আতাইকুলা থানার ওসিকে নিজের ভাই পরিচয় দিয়ে থাকেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এই পরিচয় ও কথিত পুলিশি প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ বা সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তার নির্দেশে এলাকার নিরীহ ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মামলা সহজ করা, মামলার ধারা কমানো কিংবা মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থের পরিমাণ নিয়ে সমঝোতার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া বা মামলার বিষয়টি প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়।

এ ছাড়া আতাইকুলা থানা এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পুলিশের নামে ওই অর্থ থানায় জমা দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, মো. শিমুল বিশ্বাস যুবলীগ নেতা রাঙা বিশ্বাসের কাজিন। পারিবারিক এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের প্রভাব খাটানো হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন।

স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং কোনো ব্যক্তি পুলিশ বা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ট্যাগঃ

আতাইকুলায় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও পুলিশি প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

আতাইকুলায় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও পুলিশি প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট : ০৬:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানা এলাকায় যুবলীগ নেতা মো. শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ-সমর্থক বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে পুলিশ কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কথিত পুলিশি প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নিয়মিত টাকা দেন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা হলেও যারা মাসিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের ধরপাকড়, মামলা ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ভয় দেখানো হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বকুল মেম্বর (গনেশপুর), আনোয়ার (আতাইকুলা, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি), সাইদুল ইসলাম (আতাইকুলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি), রানা মৃধা (ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা), হাসনাত (আতাইকুলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক), রায়হান (আতাইকুলা সদর) এবং নুর নবীসহ কয়েকজনের সঙ্গে এ ধরনের লেনদেন ও যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, শিমুল বিশ্বাস বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে আতাইকুলা থানার ওসিকে নিজের ভাই পরিচয় দিয়ে থাকেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এই পরিচয় ও কথিত পুলিশি প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ বা সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তার নির্দেশে এলাকার নিরীহ ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মামলা সহজ করা, মামলার ধারা কমানো কিংবা মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থের পরিমাণ নিয়ে সমঝোতার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া বা মামলার বিষয়টি প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়।

এ ছাড়া আতাইকুলা থানা এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পুলিশের নামে ওই অর্থ থানায় জমা দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, মো. শিমুল বিশ্বাস যুবলীগ নেতা রাঙা বিশ্বাসের কাজিন। পারিবারিক এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের প্রভাব খাটানো হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন।

স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং কোনো ব্যক্তি পুলিশ বা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।